
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অর্থনীতির ওপর বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের বিশাল চাপ থাকলেও আমরা বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করছি। উত্তর আমেরিকা বা আফ্রিকা যেখান থেকেই হোক, জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এরইমধ্যে এর অর্থায়নও নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে বিষয়ে আমরা অত্যন্ত সচেষ্ট।’
গত মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণ এবং শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ?‘উত্তরাঞ্চল মূলত দুইভাবে অবহেলিত হয়েছে। প্রথমত, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকার সারাদেশের অর্থনীতিকে এমনভাবে ধ্বংস করেছে যে, আমরা একটি ঋণের সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে গেছি। কোনো বিনিয়োগ হয়নি, কর্মসংস্থান হয়নি, নারীসহ সাধারণ মানুষের বেকারত্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। দ্বিতীয়ত, এ অবস্থার মধ্যেও উত্তরাঞ্চলকে চরম বৈষম্যের শিকার বানানো হয়েছে।’
কীভাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে শিল্পায়নের সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করেছি। এ অঞ্চলে কৃষিজাত পণ্যের ব্যাপক শিল্পায়ন সম্ভব। আলু, ভুট্টা, টমেটো থেকে শুরু করে গবাদিপশুর দুধজাত পণ্যের শিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে। এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে নদী থেকে প্রাপ্ত প্রচুর নুড়িপাথর ব্যবহার করে গ্লাস ফ্যাক্টরি নির্মাণ করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে রাষ্ট্র কখনও এ অঞ্চলকে নিয়ে ভাবেনি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইশতেহারে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়নের কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে। কৃষিজাত পণ্যের শিল্পায়ন নিশ্চিত করা গেলে এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।’
বিএনপি সরকারের অতীত সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএনপি সরকার বারবার উত্তরাধিকার সূত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি হাতে পেয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই নিজস্ব কর্মকৌশল দিয়ে অর্থনীতিকে মজবুত করেছে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে প্রায় দুই কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনা হয়েছিল।’
একই দিন পরিদর্শন শেষে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
মতবিনিময় সভায় এ অঞ্চলের শিল্প বিকাশের পথে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় লালমনিরহাট-১ ও লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।