
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আমিনুল ইসলাম কুয়েতে আকস্মিক ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত শনিবার কুয়েতে আঘাত হানা একটি মিসাইলের আঘাতে তিনি আহত হন। কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা তার পাসপোর্টের সূত্র ধরে এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলামের কুয়েত যাওয়ার পেছনের গল্পটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। প্রায় ১৭ বছর আগে বাবা হানদু মিয়া তাকে এবং তার মাকে ফেলে চলে যান। অসহায় মা ও শিশু আমিনুলের ঠাঁই হয় নানার বাড়ি। বহু প্রতিকূলতা ও অভাব অনটনের মধ্যে নানা তাদের আগলে রেখে লালন পালন করেন। সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে প্রায় সাত বছর আগে আমিনুলের মা জীবিকার তাগিদে কুয়েত পাড়ি জমান। গত ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি পরিশ্রমের টাকায় ছেলে আমিনুলকে কুয়েতে নিয়ে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় ড্রোন হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আমিনুল।
আমিনুলের এ সংকটাপন্ন অবস্থায় কুয়েতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুলের পাসপোর্টের কপি শেয়ার করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। আমিনুলের নিজ গ্রাম নবীনগরের দৌলতপুরে এ খবর পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা তার দ্রুত সুস্থতা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।