ঢাকা রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

কাপাসিয়ায় লিচুর ফলনে খুশি কৃষক

কাপাসিয়ায় লিচুর ফলনে খুশি কৃষক

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ও বিদেশে সুমিষ্ট লিচুর জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের কাপাসিয়া। কারণ বাংলাদেশের যে সকল এলাকায় লিচু চাষ হয় তার মধ্যে কাপাসিয়ার লিচু সবার আগে খাবার উপযোগী হয় তাই মৌসুমের শুরুতেই কাপাসিয়ার লিচু বাজারে আসায় এর কদরটাই আলাদা। সবুজ শ্যামল গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার চৈত্র মাসে বৃষ্টি হওয়ায় লিচুর ফলন ভাল হয়েছে মূল্যও ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কাপাসিয়ার লিচু শুধু বাংলাদেশের চাহিদাই পূরণ করেও বিদেশে ও রপ্তানি হয়। এবার লিচুর বিশাল একটি অংশ বিদেশে রফতানি হচ্ছে বলে ধারণা দিয়েছে ঢাকা থেকে কাপাসিয়ায় লিচু কিনতে আসা পাইকাররা।

কাপাসিয়ায় এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে লিচু বাগান নেই বা লিচুর চাষ হয় না। উপজেলার সবচেয়ে বেশি লিচুর উৎপাদন হয় দূর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকয় এ অঞ্চলের আবহাওয়া লিচুর জন্য খুবই উপযোগী হওয়ায় এখানে প্রচুর পরিমাণে লিচুর বাগান গড়ে উঠেছে। এখানকার লিচু রসালো ও সুস্বাদু বেশি হওয়ায় এর সুনাম রয়েছে দেশে ও বিদেশে। লিচু চাষ করে কাপাসিয়া উপজেলার প্রান্তিক চাষিদের অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। এতে অনেকের লিচু চাষের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকার মিষ্টি ও রসালো স্বাদের বিভিন্ন জাতের লিচুর সমাহার রয়েছে বাগানগুলোতে। এসব বাগানে বোম্বাই, কালিপুরী, চায়না-থ্রি এবং দেশি লিচুর সমারোহে ছেয়ে গেছে বাগানগুলো।

উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রানীগঞ্জ বাজারসহ ফুলবারিয়া, নাশেরা, নাজাই, রাওনাট গ্রামের বিভিন্ন লিচুবাগানে গিয়ে দেখা গেছে বাগান থেকে সংগ্রহ করা লিচু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে প্রস্তুত করছে চাষিরা। প্রতিদিন এই এলাকা থেকে ৮ থেকে ১০টি ট্রাকভর্তি লিচু দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে বলে ও চাষিরা জানায়। লিচু বাগানের মালিক আলামিন, চাঁনু মিয়া, ইলিয়াস হোসেনসহ একাধিক চাষিরা জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের চাষ করে ভালোই ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে তাদের বাগানে লিচুর ব্যাপক ফলন হওয়ায় এবং বাজারে মূল্য ভালো পাওয়ায় ভীষণ খুশি। তারা আরও বলেন, স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০০ লিচু নিম্নে ২০০ টাকা সর্বোচ্চ ভালোটা ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে লিচু সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। রানীগঞ্জে বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা এই মৌসুমী লিচুসহ বিভিন্ন ফল চাষ করে থাকে। ফলে মৌসুমী ফলের চাষাবাদ করেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

রানীগঞ্জ বাজারের ইজারাদার হেলাল প্রধান জানায়, বাজারের যে অংশে লিচু আসে সে অংশটুকুর প্রতি আমরা খুবই যত্নশিল শুধু তাই নয় লিচু বাজারের খাজনার ব্যাপারেও আমরা যথা সম্ভব কমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সৈয়দ শাকিল আহাম্মেদ জানান, এই অঞ্চলের কৃষকেরা অনেক পরিশ্রমী। ভালো ফলন পাওয়ার জন্য তারা অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমিও সবসময় চেষ্টা করি, তাদের কৃষিকাজে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। এবার ফলন ভালো হয়েছে আশা রাখছি সামনে আরো ভালো হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত