
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকগান পরিবেশন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া ফরিদপুরের শিল্পী লাইলী বেগমকে ৩ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান দিয়েছে সরকার। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ অনুদান প্রদান করা হয়। গতকাল বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী লাইলী বেগমের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজস্ব প্রতিভা, নিষ্ঠা ও সাধনার মাধ্যমে লাইলী বেগম মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। দেশের মাটি ও মানুষের সংস্কৃতিকে ধারণ করে তিনি যে সংগীতচর্চা করে চলেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সারা দেশে প্রশংসিত হয়েছে। এমন প্রতিভাবান শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করতেই এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, লাইলী বেগমকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আরও বৃহত্তর পরিসরে নিজের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার কয়েকটি লোকগান ও বাউলগান পরিবেশনের ভিডিও ব্যাপক সাড়া ফেলে। সুমধুর কণ্ঠ, সহজ-সরল উপস্থাপনা এবং গ্রামীণ জীবনের আবহ তুলে ধরা গানগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারো দর্শকের প্রশংসা অর্জন করে। এর ফলে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। অনুদান গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত লাইলী বেগম বলেন, আমার মতো গ্রামের একজন শিল্পীকে সচিবালয়ে ডেকে এনে সম্মান জানানো হবে, তা কখনও ভাবিনি। সরকারের এই সহযোগিতা আমাকে আরও ভালোভাবে গান গাইতে এবং সংস্কৃতির জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। অনুষ্ঠানে লাইলী বেগম শ্যামাসংগীত ‘সকলি তোমারি ইচ্ছাময়ী তারা তুমি’ পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা মনে করছেন, লাইলী বেগমের মতো মাটির কাছাকাছি থাকা শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেশের লোকসংগীত ও গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তার এই অর্জন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।