
শরীয়তপুর শিশু হৃদয় খান নিবির হত্যার দায়ে দুজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও এক কিশোর আসামিকে ২১ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার শরীয়তপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাকিল হোসেন গাজী ও সিয়াম হোসেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত থেকে আসামিদের আদালত হাজতখানায় নেওয়ার সময় পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট বিকালে খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার প্রবাসী মনির খান ও নিপা আক্তার দম্পতির ছেলে শিশু হৃদয় খান নিবিড়। সেদিন সন্ধ্যায় নিবিড়ের মা নিপা আক্তারের ফোনে কল করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন অপহরণকারীরা। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকার শাকিল হোসেন গাজী, পাবনার সিংঙ্গা এলাকার সিয়াম হোসেন ও খিলগাঁও এলাকার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার করা হয় নিবিড়ের মাটিচাপা দেওয়া লাশ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদা আজগর আলী খান বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা তদন্ত করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত হৃদয়ের মা নিপা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ওরা টাকার জন্য আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আড়াই বছর ধরে সন্তানের জন্য হাহাকার করছি। একটি রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। একজনকে শিশু দাবি করে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সেই ছিল মূল পরিকল্পনাকারী। রাষ্ট্রের কাছে আমার আবেদন আসামিরা যেন উচ্চ আদালতে গিয়ে কোনোভাবে খালাস না পায় এবং দ্রুত রায় কার্যকর করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কামরুল হাসান বলেন, মামলায় একজনের বিচার শিশু আদালতে হওয়ায় তাকে ২১ বছরের আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দুইজনের বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হয়েছে এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছিল। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদ কোতোয়াল বলেন, মামলার রায়ের সঙ্গে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।