ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রূপগঞ্জে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ, দুর্ভোগ চরমে

রূপগঞ্জে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ, দুর্ভোগ চরমে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য অপসারণ ১২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পৌরবাসীর উচ্ছিষ্ট বর্জ্য সেকেন্ডারি পয়েন্টে জমে সারা পৌর এলাকায় ছোট ছোট ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে বিকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পুরো পৌর এলাকাজুড়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার পরিবর্তন হওয়ায় এ সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। সমাধানে চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা এই সমস্যার সমাধান করে ময়লা অপসরণ শুরু করবে।

জানা গেছে, তারাবো পৌরসভায় লাখো মানুষের বসবাস। শিল্প এলাকা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে অসংখ্য মানুষ এই তারাবো পৌরসভায় এসে কাজ করছেন। আর এখানে বসবাসরত মানুষের বাসাবাড়ির নিত্যদিনের ব্যবহারের উচ্ছিষ্ট ময়লা-আবর্জনা সেকেন্ডারি পয়েন্টে ফেলা হয়। সেখান থেকে ভ্যানে করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ফেলে। গত তিন বছর এ কাজ করতেন সাইফুল ইসলাম নামের একজন ঠিকাদার। তিনি তিন বছর মেয়াদে তারাবো পৌরসভার টেন্ডারের মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসাবাড়ি থেকে ৬০ টাকা করে নিয়ে ময়লা অপসারণ করে ভ্যানে করে নির্ধারিত স্থানে ফেলতেন।

তার চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন ঠিকাদার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন তিন বছর মেয়াদে এই কাজটি পেয়েছেন। টেন্ডার পাওয়ার ১২ দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভ্যানে করে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার কাজ শুরু করেতে পারেনি। ফলে সেকেন্ডারি পয়েন্টে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও হাট-বাজারের ব্যবহৃত ময়লা-আবর্জনা জমে পুরো পৌরসভাজুড়ে বিভিন্ন এলাকা ছোট ছোট ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে করে পচা বর্জ্যরে দুর্গন্ধে জনদুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী। ময়লার সেকেন্ডারি অপশনের আশপাশ দিয়ে নাকে রুমাল চেপেও চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

নোয়াপাড়া এলাকার বাবুল হোসেন বলেন, আমরা এ গ্রেডের পৌরসভার বাসিন্দা। অথচ সেই মানের সেবা পাচ্ছি না। প্রায় দুই সপ্তাহ হয়ে গেল পৌরসভা ময়লা নিচ্ছেন। রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বরাবো এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, পৌরবাসীর ব্যবহার্য উচ্ছিষ্ট বর্জ্য এলাকায় সেকেন্ডারি পয়েন্টে জমতে জমতে ছোটখাট ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সামনে স্থানীয় নির্বাচনে তারাবো পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে চান নজরুল ইসলাম বাদল। তিনি বলেন, প্রতিটি বাড়িতে এবং সেকেন্ডারি পয়েন্টে এখন ময়লা জমে আছে। মানুষের কাছে গেলে স্থানীয়রা বলেন, ময়লা এখন বড় সমস্যা ময়লা সরানোর ব্যবস্থা করেন পৌরবাসী ভোগান্তিতে আছে কর্তৃপক্ষ উচিত জরুরি ভিত্তিতে এর সমাধান করা।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যারা এই কাজটি পেয়েছে তারা অচিরেই কাজ শুরু করবেন। পাঁচ থেকে সাত দিনের সময় লাগছে। এই ময়লাগুলো ফেলানোর জন্য এক ধরনের স্পেশাল ভ্যানের প্রয়োজন হয় সেগুলো তাদের ছিল না। আমাদের সাথে কথা হয়েছে আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে। যদি ময়লা অপসারণের কাজ শুরু না করেন, তাহলে আমরা টেন্ডার বাতিল করব এবং আমরা নতুন রিটেন্ডারে যাব।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত