ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ

আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ

কক্সবাজারের টেকনাফের দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকতে ডাস্টবিনের অভাব এবং পর্যটকদের অসচেতনতার কারণে ব্যাপক আবর্জনা জমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। যা খোসা ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে স্তূপে পরিণত হয়েছে।

এ সমস্যা সমাধানে পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো (যেমন কেওক্রাডং) যৌথভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও পর্যটকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকা এবং থাকলেও তা ভেঙে যাওয়া বা নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ না করার প্রবণতা। পর্যটকদের ফেলা প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য সামগ্রী সৈকতে স্তূপ হয়ে থাকছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

পর্যটন ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব দূষণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অসচেতনতা এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবও দায়ী। সমুদ্র সৈকতজুড়ে আবর্জনার স্তূপ জমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা প্রবালদ্বীপের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে বিশাল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ করছে। সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্লাস্টিকের দৈত্যের মতো ভাস্কর্য তৈরি করা হচ্ছে। পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে।

সেন্টমার্টিনের বীচ কর্মী মো. আলম জানান, সেন্টমার্টিনের সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন ডাস্টবিন সংকট থাকলেও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা হয়। কিছু কিছু পর্যটক খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, স্ট্র, চকোলেটের প্যাকেট ফেলে সৈকতকে ময়লা আর্বজনা করে ফেলে।

এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত ফয়েজুল ইসলাম জানান, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা। এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। কিন্তু পর্যটকদের ভিড় এবং প্লাস্টিক দূষণের কারণে দ্বীপটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। সেন্টমার্টিনে শীতের সময় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার পর্যটক যায়, যদিও দ্বীপটির পর্যটক ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে এক হাজার মানুষ। পর্যটকরা দ্বীপে যেকোনো জায়গায় প্লাস্টিক ফেলে যান। খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল, স্ট্র, চকোলেটের মোড়ক সবখানে ছড়ানো থাকে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত